প্রচ্ছদ অন্যান্য পৃষ্ঠা গোমস্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ৪টি অ্যাম্বুলেন্সই অকেজো

গোমস্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ৪টি অ্যাম্বুলেন্সই অকেজো

225
0

গোমস্তাপুর (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) প্রতিনিধি: রোগী অসুস্থ, নিতে হবে রাজশাহী। কিন্তু প্রয়োজনের সময় পাওয়া যায়না অ্যাম্বুলেন্স। পাশের উপজেলা থেকে অ্যাম্বুলেন্স এনে রোগী পাঠাতে হয়। এভাবেই চলছে গোমস্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অ্যাম্বুলেন্স সেবা। কারণ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ৪টি অ্যাম্বুলেন্সই বর্তমানে অকেজো। সর্বশেষ প্রায় আট মাস আগে চালু একটি অ্যাম্বুলেন্সের যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেওয়ার পর আর ব্যবহার হয়নি। অযত্ন-অবহেলায় পড়ে থেকে অ্যাম্বুলেন্সগুলো এখন অকেজো হয়ে গেছে। সরেজমিনে দেখা গেছে মরিচা ধরে যাওয়া ৪টি অ্যাম্বুলেন্সের নাজেহাল অবস্থা। সেগুলো খোলা আকাশের নিচে পড়ে রয়েছে। ভিতরে থাকা অনেক যন্ত্রাংশ এখন আর নেই। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে গোমস্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তিন বছর আগে একটি অ্যাম্বুলেন্স আসে। কিছুদিন চলার পর তার চাকা নষ্ট হয়ে গেলে সেটা আর ভালো করা হয়নি। এতদিন এই ভাবে পড়ে থেকে পুরোপুরি অকেজো হয়ে গেছে। এভাবে পরপর প্রাপ্ত ৪টি অ্যাম্বুলেন্সই অকেজো। এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দিনে প্রায় ২০০-২৫০ রোগী সেবা নিতে আসেন। ভর্তি হন প্রতিদিন গড়ে ১০ থেকে ১৫জন। এদের মধ্যে অনেককেই উন্নত চিকিৎসার জন্য জেলা অথবা বিভাগীয় হাসপাতালে যেতে হয়। কিন্তু প্রতিদিন একজন রোগীকে অ্যাম্বুলেন্স সেবা দিতে পারে কর্তৃপক্ষ। আর যে অ্যাম্বুলেন্সটি এখন আছে সেটা আবার নাচোল উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে চেয়ে আনা। তবু এই অ্যাম্বুলেন্সটিরও যন্ত্রাংশের ত্রুটি মাঝে মাঝে লক্ষ্য করা যায়। যাতে করে রোগীরা ঠিকমত সেবা পাচ্ছে না। তখন যেতে হয় গাড়ি ভাড়া করে জেলা ও বিভাগীয় শহরের মেডিকেলে। চিকিৎসা নিতে আসা কয়েকজন বলেন, গ্রামের অধিকাংশ মানুষই অল্প আয়ের। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একটি মাত্র অ্যাম্বুলেন্স একজন রোগী নিয়ে অন্যত্র চলে গেলে বাকি রোগীদের বিপাকে পড়তে হয়। দ্রুত অ্যাম্বুলেন্সগুলো মেরামতের জন্য তারা কর্তৃপক্ষের নিকট অনুরোধ জানিয়েছেন।

মেডিকেল সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা আজিজুর রহমান জানান, এলাকার জনসাধানের স্বার্থে অতি দ্রুত অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস চালু করা প্রয়োজন। কারন অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস চালু না থাকায় জনগনকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

সমাজকর্মী মঈন উদ্দিন বলেন, এই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স অনিয়ম ও দুর্নীতিতে ছড়িয়ে গেছে। সরকারি অ্যাম্বুলেন্সে হাতে গুনা কয়েকজন রোগী সেবা পায়। এখানে ৪টি অ্যাম্বুলেন্স সামান্য কিছু অর্থের কারণে মেরামত হচ্ছে না। খোলা আকাশের নিচে ফেলে রাখা হয়েছে। যাতে করে দীর্ঘদিন থাকার কারণে ৪টি অ্যাম্বুলেন্স প্রায় নষ্ট হয়ে গেছে। অ্যাম্বুলেন্স গুলো মেরামত করা হলে অনেক রোগী ভালো সেবা পাবে।

এ বিষয়ে গোমস্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাসুদ পারভেজ বলেন, অকেজো অ্যা¤ু^লেন্সগুলো মেরামতের অযোগ্য। এগুলো মেরামতের অর্থ দিয়ে নতুন একটি অ্যাম্বুলেন্স পাওয়া যাবে। তবে নাচোল থেকে প্রাপ্ত আরেকটি এ্যাম্বুলেন্স সচল থাকায় পুরোনো অ্যাম্বলেন্সগুলো আর মেরামত করা হচ্ছে না। নতুন অ্যাম্বুলেন্স পাওয়ার জন্য উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ বরাবর আবেদন করা হয়েছে।