Home অন্যান্য পৃষ্ঠা আজব বিয়ে- আব্দুল্লাহ হাফিজ

আজব বিয়ে- আব্দুল্লাহ হাফিজ

152
0

মেরী টডা সুন্দরী তন্বি। বিদ্যালয় পেরিয়ে
মহাবিদ্যালয়ে পা।

ব্যাস : Propose Propose Propose
আর মেরী : Refuse RefuseRefuse.
তার বক্তব্য যে আমার পাণি প্রার্থী হবে অর্থাৎ আমি
যার পাণি গ্রহণ করব সে হবে আমেরিকার
প্রেসিডেন্ট কথা শুনে বান্ধবীরা হাসতে লাগলো।
হাসারই কথা, ভাগ্যতো কার হাতে ধরা নয়, কোন ক্ষেত্রে
সত্যও হয়, ছেলেদের প্রতিজ্ঞা করতে দেখা গেছে,
মেয়েদের এমন প্রতিজ্ঞা বিরল। বিরল ঘটনারই
বহিঃপ্রকাশ এ সত্য ঘটনাটি। মেরী লক্ষ্য করছে কার মধ্যে
আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হবার বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান,
অনেককেই লক্ষ্য করেছে । বক্তব্য শুনেছে কিন্তু আব্রাহাম
লিংকোনের মত নয়। ওর কথা বলার আর্ট, কুট কৌশল,
প্রতিটি কথায় যেন যাদুর আকর্ষণ, কি কথায়
জনগণের দিল জয় হয় ওর জানা আছে। গেটিসবার্গ
এড্রেস যখন হল জনগণের অধোরোষ্ঠে লিংকোণের কথার
গুণ কীর্তণ শুনে শতগুণে জলে উঠলো মেরীর প্রেম। ওকে
ছাড়া কাওকে বিয়ে করবে না প্রতিজ্ঞা। না পেলেও
কুমারী জীবন কাটিয়ে নিশেষ করে দিবে। বিশ্ব
বিখ্যাত সম্প্রতি আমেরিকান গণতন্ত্র। চমৎকার বলার
ভঙ্গি অদ্ভুত অংগ প্রত্যঙ্গের ভাষা। মানুষের মন জয় করে
নিয়েছে -মেরী টড কনফার্ম আগামী প্রেসিডেন্ট

হতে চলেছে আব্রাহাম লিংকন আর আমেরিকার
প্রেসিডেন্ট হবে আমার স্বামী।
রিপাবলিকান অফিসে নাম জমা দিল লিংকন। অধির
অপেক্ষা নিজে ও সাথীরা। বেশ কয়েকজনের নাম উঠে
আসে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট পদে আগামীর
লড়াইয়ে। অনেক প্রতিক্ষার অবসান ঘটল উঠল লিংকনের
নাম। সাথীরা লাফিয়ে উঠল। ১ম বিজয় হল। অন্যান্য
বিজয়ও হবে ॥ ১৮৫৬ সালে ২৯ মে তারিখে ইলিনয়েসের
রিপাবলিকান দলের প্রতিষ্ঠা দিবসে তিনি দেশের
প্রচলিত ঘৃণ্য দাস ব্যবসার উপর এক জ্বালাময়ী ভাষণ দান
করেন তাঁভাষণ শুনে শ্রতারা একেবারে অভিহিত হয়ে
যায়।
শ্রমিকের সাথে হাত মিলায়। PA বলে স্যার ময়লা লাগলো হাতে।
লিংকন: ও ধুলেই চলে যাবে। আমি ভাবি আমার সাথীদের
নিয়ে এদের মধ্যে ময়লা থাকলে তা দেখাও যায়না ধোয়াও
যায়না, মনে মনে কেও হাসে, কেও ভাবে ।
মেরীর আর বুঝতে বাকী রইলো না কে আমেরিকার
প্রেসিডেন্ট হবে । এবার
মেরী ঘোষণা দিলো আমি লিংকনকেই বিয়ে করব। খবর
দিল লিংকনকে। লিংকোন ভাবলো আমি গরিব, আমার
একটা প্যান্ট কেনার সামর্থ নেই। এটা অবশ্য
প্রেসিডেন্ট হবার পূর্বে। ওসব এলিফ্যান্ট নিয়ে চলা
যাবেনা। মেরী শুনে নাছড় বান্দা। ভাল করেই লাগলো লোকের
পর লোক। খবরের পর খবর। একটা মানুষ কত চাপ সহ্য করে।
শেষে রাজি হল।

শুনে মেরী হুররে বলে লাফিয়ে উঠলো
বিয়ের দিন ঠিক হল
মেরীদের বাসায় বহু লোকের সমাগম। অনেক বড় বড়
ডেকচি চাপিয়ে নানা ধরনের খাবার তৈরী করা হলো ।
বর ও বর যাত্রী আসবে। বেলা ১১ টা চলে গেল, সকলে
আসা করছে যে দুপুর পর আসবে। দুপুর চলে গেল,
বিকেল গেল। বিকেল গেল তো হলো কি ? সবটাই
ঈশ্বরের (স্রষ্টার) লগ্ন, ভয় নেই সন্ধ্যার পর হবে রাতে হবে।
না লিংকনের পাত্তা নেই।
লিংকন তিক্ষা ব্রেইনের লোক গরীব হলে কী হবে মাথার
মধ্যে ধারালো ব্লেড কাজ করে কেও কথায় কাজে ঠকাতে
পারে না এরূপ না হলে যোগ্য নেতা হয় কী করে!
মেরী নিরবে কাঁদলো
দিন গড়িয়ে যেতে যেতে বেশ কিছুদিন চলে গেল
বন্ধুর স্ত্রী মুন Ñ ফ্রেন্ড বাহির থেকে পাখি এনে ঘরে
রেখে পুষছে। তা ফ্রেন্ডের ফ্রেন্ড পাখী নিয়ে কবে পুষবে
পোষ মানবে।
ডেন্টন অফাট Ñ আহ্ধসঢ়; কি হচ্ছে, পরে হবেক্ষণ, লিংকণ
কথা গুলো শুনতে শুনতে ফ্রেন্ডের ইশারায় ঘরে ঢুকলো
ফ্রেন্ড বললো যা ঘরে বোস।
লিংকোন ঘরের দরজা দিয়ে ঢুকতেই দেখলো জানালা
দিয়ে নদী জানালার পাশে টেবিল চেয়ার। চেয়ারে একটি
মেয়ে বসে নদীর দিকে মুখ করে।

লিংকোন বসার জন্য আসন ঠিক করতে যাচ্ছে এমন
সময় মেয়েটি চেয়ার থেকে উঠেই লিংকোনের পা
দুটি জড়িয়ে কাঁদতে লাগলো আমি তোমাকে ছাড়া
বাঁচতে পারবো না লিংকোন তুমি এত নিষ্ঠুর হয়ে
যেওনা। আমার কান্নাায় পাথর গলে যায় আার তুমি।
লিংকোন : কথা হলো ঘৃনা নয় আমি কপর্দকহীন
ব্যাক্তি। তুমি ধনীর দুলালী।
মেরী: আমি খালি হাতে ঘুরি আমার খরচ যখন চলে
তোমারও চলবে চিন্তার কারণ নেই। কেননা আমি ধনী
ঘরের একমাত্র মেয়ে।
লিংকোন : আমি কারো অনুগ্রহে চলা ঘৃণা করি, আমার যা আছে ঐ আমার গর্ব , আনন্দ।
মেরী : ঠিক আছে তোমার মত তুমি চলিও।
লিংকোন । উঠো এসো পায়ে নয়। এখানে এসো বলে তাকে আলতো জড়িয়ে আলতো পরশে তুলে ধরলো।
পরবর্তীতে অবশ্য লিংকোনের ধারনায় সত্যে পরিণত হয় একদিন, তখন তিনি আমেরিকার প্রেসিডেন্ট, ঘরে বসে ফ্রেন্ডের সাথে দাবা খেলছে এদিকে মেরী ডাকছে ।
প্রেসিডেন্ট : আসি
মেরী: ছেলেকে বললো-বাবাকে ডেকে নিয়ে আস।
ছেলে : বাবা, মা ডাকছে।
বাবা : এই তো এ চালটা দিয়েই আসছি

মেরী  : ছেলেকে : কি হলো জন, তোমাকে ডাকতে বললাম
না তোমার বাবাকে।
ছেলে: এইতো এলো বলে ।
মেরী: দেরী দেখে : দাবার নিকট গিয়ে ওদের মনো নিবেশ দেখে দাবার ছক দিলো উল্টিয়ে। ব্যাস খেলা শেষ এই হলো আমেরিকার বিখ্যাত প্রেসিডেন্ট আব্রাহামের দাম্পত্ত জীবন ॥
তবু তিনি বিচলিত হননি অটলতার সাথে সকল দিক সামলে কাজ করে গেছেন বলেই তিনি আজ বিখ্যাত,
ইতিহাসের পাতায় জায়গা করে নিয়েছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here