তৃণমূল জমানার প্রথম ইনিংসে উৎসবের ঘনঘটা নিয়ে সরব ছিল বিরোধীরা। দ্বিতীয় ইনিংসের পাঁচ মাস পেরনোর পর আবার সেই এক প্রশ্নে হইচই শুরু হল। এ বারের উপলক্ষ— দুর্গাপুজোর বিসর্জনের নামে কার্নিভাল এবং ‘আহারে বাংলা’ উৎসব।

কোষাগার থেকে কয়েক কোটি টাকা ব্যয় করে রেড রোডে দুর্গা প্রতিমার শোভাযাত্রার পরে বামফ্রন্টের দাবি, পূর্ব ঘোষণা মতো ‘আহারে বাংলা’ উৎসব নিয়ে রাজ্য সরকারের আর এগোনো উচিত নয়। তাদের যুক্তি, রাজ্য জুড়ে কল-কারখানা বন্ধ। বহু শ্রমিক বেকার। নতুন প্রজন্মের চাকরির ব্যবস্থা হচ্ছে না। এই অবস্থায় সরকারি উদ্যোগে দেদার পেট পুজোর আয়োজন একেবারেই বেমানান। শুধু মুখে বলাই নয়, এ বার এই উৎসব বন্ধের দাবিতে পথে নামছে বামফ্রন্ট। এ ব্যাপারে রাজ্যপালের হস্তক্ষেপও দাবি করছে তারা।

আলিমুদ্দিনে শনিবার বামফ্রন্টের বৈঠকে রাজ্য সরকারের উৎসবপ্রিয়তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
সেখানেই ঠিক হয়েছে, কলকাতার মিলন মেলা প্রাঙ্গনে ২১ থেকে ২৫ অক্টোবর যখন ‘আহারে বাংলা’ উৎসব চলবে, সেই সময়ে রাজ্য জুড়ে প্রতিবাদে যাবে বামফ্রন্ট।
ফ্রন্টের চেয়ারম্যান বিমান বসুর কথায়, ‘‘চা বাগানের শ্রমিকেরা অনাহারে আছেন। প্রায় ৪০০ শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। শ্রমিকেরা বকেয়া পাচ্ছেন না। এই অবস্থায় এমন উৎসব কি অভুক্ত, অর্ধভুক্ত মানুষকে ব্যঙ্গ করা নয়?’’ বামপন্থী ট্রেড ইউনিয়নগুলির তরফে ঠিক হয়েছে, আগামী ১৯ অক্টোবর জেলায় জেলায় ‘আহারে বাংলা’-র প্রতিবাদে প্রচার চলবে। পর দিন ২০ তারিখ তপসিয়া থেকে মিছিল যাবে মিলন মেলা প্রাঙ্গনের দিকে উৎসব বন্ধের দাবিতে। আর ২১ তারিখ থেকে উৎসব চলাকালীন কলকাতা-সহ রাজ্যের নানা প্রান্তে প্রতীকী অনশন কর্মসূচি নেওয়া হবে। এই প্রতিবাদ কর্মসূচির নাম দেওয়া হয়েছে ‘অনাহারে বাংলা।’ সিটুর রাজ্য সভাপতি শ্যামল চক্রবর্তীর কথায়, ‘‘রাজ্যে ১৮ লক্ষ কর্মপ্রার্থী যুবক-যুবতী বসে আছেন। টেট-এর নিয়োগ নিয়ে কী হচ্ছে, কেউ জানে না। সিঙ্গুর হয়নি। জেসপ বন্ধ। কর্মসংস্থানের কোনও দিশা নেই। এই অবস্থায় নির্লজ্জ ভাবে সরকার বলছে, পেট পুরে খান। আমরা বলছি, অনাহারে বাংলা।’’  -আনন্দবাজার