আব্দুল খালেক: রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে সূর্যমুখী চাষে লাভের স্বপ্ন দেখছে চাষীরা।
খোঁজ নিয়ে জানা যায় গোদাগাড়ী উপজেলায় “বাংলাদেশের চর এলাকায় আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণ প্রকল্প” এর আওতায় গোদাগাড়ী পৌরসভাসহ চর আষাড়িয়াদহ এলাকায় বিপুল পরিমাণে সূর্যমূখী চাষ হচ্ছে। কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায় চরাঞ্চলের প্রায় ২৫ বিঘা জমিতে সূর্যমুখী চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধরণ করা হয়েছে। গোদাগাড়ী পৌর এলাকার মাদারপুর গ্রামের নীচে পদ্মার জেগে উঠা চরে কৃষক ইসমাইল হোসেনের ৩৩ শতকের একটি প্রদর্শনী প্লটে গিয়ে দেখা যায়, এক একটি ফুল যেন হাসিমুখে সূর্যের কিরণ ছড়াচ্ছে। চারদিকে হলুদ ফুল আর সবুজ গাছের অপরূপ দৃশ্য। এ সৌন্দর্য দেখতে আশপাশের এলাকা থেকেও ভিড় জমাচ্ছেন অনেকেই। সুন্দরভাবে সারিসারি দাঁড়িয়ে আছে সূর্যমুখী গাছগুলো, কি অপরুপ নয়নাভিরাম দৃশ্য, ফুলের সৌদর্যে যে কারও মন ছুয়ে যাবে। উপজেলা কৃষি অফিস থেকে বিনামূল্যে বীজ ও সার পেয়ে তিনি সূর্যমুখী চাষ করেন।

কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করতে বিনামূল্যে বীজ ও সার দেওয়া হয়েছে। কৃষকদের স্বাবলম্বী করতেই সূর্যমুখী ফুল চাষে উত্সাহিত করা হয়েছে। যদি সফল হওয়া যায় আগামীতে সূর্যমুখী চাষ অনেক বৃদ্ধি হবে। উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. ওবাইদুল্লাহ বলেন সূর্যমূখী একটি লাভজনক ফসল। সূর্যমুখী উঠতে প্রায় ৯০ দিন সময় লাগে। এখানে আরডিএস-২৭৫ জাতের সূর্যমুখী চাষ করা হয়েছে।

সূর্যমুখী একটি অত্যন্ত লাভজনক ও পুষ্টিকর তৈলবীজ ফসল, সূর্যমুখী তেল হৃদরোগীদের জন্য খুব উপকারী এবং এতে ক্ষতিকারক ইরোসিক অ্যাসিড নেই।
এ ব্যাপারে গোদাগাড়ী উপজেলা কৃষি অফিসার জনাব মরিয়ম আহমেদ বলেন,
“গোদাগাড়ী উপজেলার চরাঞ্চলে সূর্যমুখী চাষের যে সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে, তা আমাদের জন্য অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। ‘কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর’-এর তত্ত্বাবধানে ‘বাংলাদেশের চর এলাকায় আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণ প্রকল্প’-এর আওতায় আমরা কৃষকদের মাঝে উন্নত জাতের বীজ ও প্রয়োজনীয় সার সরবরাহ করেছি।
আরডিএস-২৭৫ জাতের সূর্যমুখী স্বল্প সময়ে (প্রায় ৯০ দিনে) ফলন দেয় এবং তুলনামূলকভাবে কম খরচে ভালো উৎপাদন সম্ভব। এটি একটি উচ্চ ফলনশীল ও লাভজনক তৈলবীজ ফসল।
আমরা চাই, গোদাগাড়ীর চরাঞ্চলের পতিত ও নবজাগ্রত জমিগুলোকে কাজে লাগিয়ে কৃষকদের আয় বৃদ্ধি করা হোক। প্রদর্শনী প্লটগুলো দেখে ইতোমধ্যে অনেক কৃষক আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। আশা করছি, আগামী মৌসুমে সূর্যমুখী চাষের পরিধি আরও বৃদ্ধি পাবে এবং কৃষকরা আর্থিকভাবে আরও স্বাবলম্বী হবেন।”