আব্দুল খালেক:
রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ড. শফিকুর রহমান বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি ফ্যাসিবাদ বিরোধী, ভারত আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ও নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। আজ বৃহস্পতিবার বেলা ২টার দিকে গোদাগাড়ী উপজেলার মহিশালবাড়ী মহিলা ডিগ্রী কলেজ মাঠে নির্বাচনী জনসভায় লক্ষাধিক নেতা-কর্মীর মাঝে স্থানীয় নেতৃবৃন্দরা বক্তব্য দেন।
অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেছেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যদি আল্লাহ তায়ালা মেহেরবানী করেন আর বাংলাদেশের জনগণ যদি জামায়াতে ইসলামীকে রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসীন করেন তাহলে কুরআনের আইনকে সামনে রেখে দেশটাকে সাজাতে চাই। সূরা হজ্জের ৪০ নং আয়াতকে স্মরণ করে তিনি বলেন, আল্লাহ তায়ালা বলেন যাদের হাতে কোন দেশের, কোন ভুখন্ডের ক্ষমতা আসবে তখন তারা নামায চালু করে মানুষের চরিত্র সুন্দর করে দিবে। নিশ্চয় নামায নামাজীকে অন্যায় কাজ থেকে বিরত রাখে।
কেউ চুরি করবে না, কেউ ডাকাতি করবে না, বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষ সুখে শান্তিতে বসবাস কবে। মানুষ যদি ভালো হয়ে যায় তাহলে কি অন্যায় কাজ, চুরিচামারি হবে?
যাকাতের বিধান চালু হলে বাংলাদেশের অর্থনীতির চাকা এমন হত না। আমরা ক্ষমতায় আসলে যাকাত চালু করে অর্থনীতির চাকা সুদৃঢ় করব।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান নির্বাচন প্রসঙ্গে বলেন, এটি কোন সাধারণ নির্বাচন নয়। এটি একটি জাতীয় নির্বাচন। বহু রক্তের বিনিময়ে আমরা এ নির্বাচন পেয়েছি। আমরা নিজেরা কোন দুর্নীতি করব না, দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দিব না, আমরা সকল ন্যয় বিচার নিশ্চিত করব। কেউ বিচারের উপর হস্তক্ষেপ করতে পারবে না। জুলাইন সনদ বাস্তবায়ন ও সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে, একজন মানুষ যেন গর্ব করে বলতে পারে উত্তম বাংলাদেশ এবং আমিই বাংলাদেশ। যে বাংলাদেশে আমাদের মা-বোনেরা কর্মস্থলে নিরাপদে থাকবে, আমরা তাদের সর্বদা নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করব। আমরা এমনভাবে শিক্ষা ব্যবস্থাকে তৈরি করতে চাই যে শিক্ষা ব্যবস্থা প্রতিটি শিশুকে একজন সৈনিক তৈরি করবে। শিশুদের উত্তম শিক্ষা দিয়ে ভালো কাজের ব্যবস্থা করা হবে। এমন বাংলাদেশ গড়া হবে যেখানে সকল মানুষ স্বাচ্ছন্দে বসবাস করবে। হিন্দু বৈধ্য, খ্রিস্টান ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে জাত পাতের ব্যবধান ভুলে সকলের বাংলাদেশ গড়তে চাই। সরকার সকলের অধিকার নিশ্চিত করতে বাধ্য। জেলায় জেলায় বিশেষায়িত হাসপাতাল গড়ে তোলা হবে। প্রথম ভোট গণভোট, গণভোটে হাঁ ভোট দিবেন। দ্বিতীয় ভোট দাঁড়িপাল্লায় দিবেন।
বক্তব্যের এক পর্যায়ে রাজশাহী-১, গোদাগাড়ী-তানোর এর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক মুজিবুর রহমানকে দাঁড়িপাল্লা তুলে দিয়ে বলেন, আপনারা ইনাকে চিনেন, ইনি আপনাদের পাশে ছিলো নাকি বসন্তের কোকিল। দাঁড়ি পাল্লাহ হলো ইনসাফের প্রতীক। ইনসাফের প্রতীক দাঁড়ি পাল্লায় আপনার ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করবেন ইংশাআল্লাহ।



