আব্দুল খালেক: রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলায় আত্মগোপনে থাকা কতিপয় আওয়ামীলীগ নেতার ফেসবুক পোষ্টের বলি হচ্ছেন সাধারণ কর্মী সমর্থকরা। গতবছর জুলাই গণঅভ্যত্থানে আওয়ামীলীগের সভানেত্রী দেশ ত্যাগ করার পর দলের রাঘব- বোয়ালরাও পরস্পর দেশ ত্যাগ করেন। কিছু কিছু এম.পি মন্ত্রীসহ নেতৃবৃন্দ জেল হাজতে আছেন। আবার কিছু কিছু নেতা-কর্মী দেশেই আত্মগোপনে আছেন বলে জানা যায়। দেশের বাইরে কিংবা দেশের অভ্যান্তরে যেসব নেতা-কর্মী আত্মগোপনে আছেন তারা মাঝে মধ্যেই সামাজিক মাধ্যমে গ্রুপ খুলে বর্তমান সরকারের নামে প্রপাগান্ডা ছড়াচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। যারা দেশের বিভিন্ন স্থানে জড়ো হয়ে ঝটিকা মিছিল কিংবা সামাজিক মাধ্যমে ত্রাশ সৃষ্টি করছে তাদের বিরুদ্ধে খোদ আ’লীগীরই সাধারণ কর্মীরা ফুঁসে উঠছেন। কিছু কিছু নেতা বিগত ১৬ বছরে আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ বনে গেছেন এবং তারা সকলেই পালাতক। কিন্তু শত শত কর্মী আছে যারা কোনদিন কারও ক্ষতিসাধন করেনি তারা এখনো সুন্দর, স্বাভাবিক ভাবেই আগের নিয়মেই বাজার ঘাট থেকে শুরু করে সব জায়গাতেই বিচরণ করছেন। সকাল-সন্ধা বেলায় সকল দলমত নির্বিশেষ চায়ের আড্ডায় বসছেন।
পলাতক কিংবা আত্মগোপনে থাকা আওয়ামীলীগের নেতা-কর্মীরা যখন ঝটিকা মিছিলের ডাক বা ফেসবুকে উচ্ছৃঙ্খল পোষ্ট দেয়, তখন নড়েচড়ে বসে প্রশাসনের লোকজন। এতে করে ক্ষতি হয় সাধারণ আওয়ামীলীগ কর্মীদের। এমনই ক্ষোভ প্রকশ করেছেন কতিপয় সাধারণ কর্মী।
আওয়ামীলীগের সাধারণ কর্মীরা চায় দেশে যেন আর কোন দাঙ্গা হাঙ্গামা না হয়। তারা স্বাভাবিকভাবে জীবন যাপন করতে চায়। সে ক্ষেত্রে যারা ফেসবুকে পোষ্ট দিয়ে বিশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে চাচ্ছে তাদের উপর যারা চটেছেন তার মধ্যে একজন হলো শ্রীমন্তপুর গ্রামের বেলাল উদ্দীন জুয়েল। তিনি গত ৯ আগষ্ট ফেসবুকে লিখেছেন “আপনারা টাকা পয়সা কামিয়ে পরিবার নিয়ে পালিয়ে গিয়ে আরামে আছেন কিন্তু আমরা তখনও অবহেলিত এখনও আপনাদের জন্য নতুন করে নির্যাতনের শিকার হচ্ছি, তাই সাবধান করছি। রাজনীতি করার ইচ্ছা, পারলে গোদাগাড়ীতে এসে ফেসবুকে পোষ্ট করেন। যারা অপরাধ করেছেন তারা অপরাধের শাস্তি ভোগ করেন। আপনাদের কারণে সাধারণ কর্মীরা জেল খেটে আসল।” এ ব্যাপারে জুয়েলের পোষ্টে মন্তব্য করেছেন গোদাগাড়ী উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাসুদ পারভেজ “ধন্যবাদ জুয়েল তোমাকে”। যুবলীগের রাকিবুল সরকার বলেছেন ‘‘সহমত প্রকাশ করছি জনাব”।
সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল মালেকের নিকট জানতে চাওয়া হলে তাঁর ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। সাবেক আ’লীগ নেতা মহবুল আলম মুক্তি বলেন এসব ব্যাপারে মন্তব্য করতে চাচ্ছি না, তবে কথা সঠিক। ভগবন্তপুর গ্রামের আওমীলীগ নেতা কামরুল বলেন বিগত আমলে যারা অবৈধ পন্থায় টাকা রোজগার করেছে তারা আত্মগোপনে গিয়ে ভালো আছে, কিন্তু আমরা যারা বাইরে আছি তারা ভালো নেই। তাদের কারণে জেল খেটে আসলাম। এছাড়াও আরো অনেক কর্মী আছেন যারা কোন মন্তব্য করতে চাচ্ছেন না। তবে ঘটনা সত্য বলে স্বীকার করেছেন।

বি.দ্র: ঝটিকা মিছিলের ছবিটি প্রতিকি মাত্র।