এস.এম. সাইফুল ইসলাম কবির, বাগেরহাট :

চরমোনাই পীর ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ’র আমীর মুফতী সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম বলেছেন, শতশত মানুষের প্রান ও রক্তের বিনিময়ে বাংলাদেশ ফ্যাসিষ্ট মুক্ত হয়েছে। এ দেশে আর নতুন করে চাঁদাবাজ, লুটকারি, নির্যাতনকারি ও অর্থ পাচারকারিদের স্থান হবেনা। ’২৪ এর গণ অভ্যুত্থানে যারা শহীদ হয়েছে তাদের রক্তের সাথে বেইমানী করার সুযোগ কাউকে দেওয়া হবেনা।

বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) বিকেল ৫টার দিকে বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ কাপুড়িয়াপট্টিতে এক গণ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় চরমোনাই পীর এসব কথা বলেন। সমাবেশে হুশিয়ারি উচ্চারণ করে চরমেনাই পীর আরও বলেন, ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীরা শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে হলেও জুলাই বিপ্লবীদের প্রত্যাশা পূরণ করবে।

প্রয়োজনীয় রাষ্ট্র সংস্কার, গণহত্যার বিচার, সংখ্যানুপাতিক(পিআর) পদ্ধতিতে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবিতে ও ইসলাম বিরোধী সকল ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে ইসলামী আন্দোলন মোরেলগঞ্জ উপজেলা শাখা এ গণ সমাবেশের আয়োজন করে।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন দলটির মোরেলগঞ্জ উপজেলা শাখার সভাপতি মাওলানা এইচ. এম সাইফুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর নায়েবে আমীর হাফেজ মাওলানা আব্দুল আউয়াল, কেন্দ্রীয় সুরা সদস্য অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল মজিদ, বাগেরহাট জেলা উপদেষ্টা মাওলানা ওমর ফারুক নুরী, জেলা জামায়াতে ইসলামীর নেতা জামায়াতে ইসলামীর বাগেরহাট-৪ (মোরেলগঞ্জ-শরণখোলা) আসনের প্রার্থী অধ্যক্ষ আব্দুল আলীম।

এছাড়াও বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন জেলা মুজাহিদ কমিটির নেতা মাস্টার হারুনুর রশিদ, জেলা যুব আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মাহবুবুর রহমান, উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা শাহাদাৎ হোসাইন,উপজেলা সেক্রেটারি মাওলানা আসাদুল্লাহ। এনসিপি উপজেলা প্রতিনিধি কে.এম.এস আকিব ও মো. মহিদুল খান মিদুল সহ আরও অনেকে।

সমাবেশ শুরুর আগে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে নেতাকর্মীরা খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে উপস্থিত হলে কাপুড়িয়া পট্টি জনসমুদ্রে রূপ নেয়। প্রবল বৃষ্টি উপেক্ষা করে নেতাকর্মীরা সমাবেশস্থলে দীর্ঘক্ষণ অবস্থান করেন এবং চরমোনাই পীর সাহেবের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শ্রবণ করেন। পীর সাহেব চরমোনাই আরও বলেন, “ইসলামী শাসন ব্যবস্থার মাধ্যমেই দেশে প্রকৃত শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব। তাই আগামী নির্বাচনে হাতপাখা প্রতীকে ভোট দিয়ে ইসলামী শাসন প্রতিষ্ঠায় সকলকে একযোগে কাজ করতে হবে।”

গণসমাবেশ শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হলেও এর প্রভাব এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। স্থানীয়ভাবে এ সমাবেশকে ইসলামী আন্দোলনের সাংগঠনিক শক্তির বড় বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।