জিখবর ডেস্ক:

“অল্প সময়ে, স্বল্প খরচে, সঠিক বিচার পেতে চলো যাই গ্রাম আদালতে”— এই স্লোগানকে সামনে রেখে রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে অনুষ্ঠিত হলো ‘গ্রাম আদালত সমন্বিত পরিকল্পনা প্রণয়ন কর্মশালা’। গ্রামের ছোটখাটো ফৌজদারি ও দেওয়ানি বিরোধ স্থানীয় পর্যায়ে দ্রুত, সহজ এবং নামমাত্র খরচে নিষ্পত্তির বার্তা তৃণমূল মানুষের কাছে পৌঁছে দিতেই এই উদ্যোগ।

​১৯ মে (মঙ্গলবার) দুপুর ১২টায় গোদাগাড়ী উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলা হলরুমে এই কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হয়।

​কর্মশালায় বক্তারা জানান, গ্রাম আদালত আইন, ২০০৬ অনুযায়ী ইউনিয়ন পরিষদে গঠিত এই আদালত স্থানীয়ভাবে কতিপয় ফৌজদারি ও দেওয়ানি বিরোধের দ্রুত নিষ্পত্তি করে থাকে। এই আদালতের মূল বৈশিষ্ট্যগুলো হলো, গ্রাম আদালত অনধিক ৩ লাখ টাকা মূল্যমানের বিরোধ নিষ্পত্তি করতে পারে,এখানে কোনো আইনজীবী নিয়োগের বিধান নেই। ফলে পক্ষগণ কোনো মধ্যস্থতাকারী ছাড়াই সরাসরি নিজেদের কথা বলার সুযোগ পান। সমঝোতার ভিত্তিতে বিরোধ মেটানো হয় বলে পক্ষদ্বয়ের মধ্যে শত্রুতা দূর হয় এবং সামাজিক শান্তি বজায় থাকে। এই ব্যবস্থার ফলে গ্রামীণ দরিদ্র, নারী, প্রতিবন্ধী ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মানুষেরা বিশেষভাবে উপকৃত হচ্ছেন।​

ফৌজদারি কার্যবিধি অনুসারে: চুরি, দাঙ্গা, প্রতারণা, ঝগড়া-বিবাদ, মারামারি, মূল্যবান সম্পত্তি আত্মসাৎ, অন্যায় নিয়ন্ত্রণ ও আটক, হুমকি দেওয়া এবং নারীর শালীনতা নষ্ট করার মতো অভিযোগের সমাধান করা হয়। পাওনা টাকা আদায়, স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি দখল ও পুনরুদ্ধার, ক্ষতিপূরণ, গবাদিপশু অনধিকার প্রবেশ, কৃষি শ্রমিকদের মজুরি আদায় এবং স্ত্রীর বকেয়া ভরণপোষণ আদায়ের মতো বিষয়গুলো নিষ্পত্তি করা হয়।

​গ্রাম আদালত স্থানীয় পর্যায়ে দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার পাশাপাশি দেশের উচ্চ আদালতগুলোর ওপর মামলার জট ও চাপ কমাতে দারুণ ভূমিকা রাখছে। এখানে মামলার জন্য শুধু নির্ধারিত সরকারি ফি দিতে হয়, এছাড়া অন্য কোনো অতিরিক্ত খরচ নেই।

​বর্তমানে স্থানীয় সরকার বিভাগ, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের অধীনে ‘বাংলাদেশ গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ (৩য় পর্যায়) প্রকল্প’-এর আওতায় দেশব্যাপী এই কার্যক্রম চলছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে যৌথভাবে সহায়তা করছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (EU) এবং ইউএনডিপি (UNDP) বাংলাদেশ ।

​উপজেলা কো-অর্ডিনেটর গ্রাম আদালত প্রকল্প আতিকুর রহমানের চমৎকার সঞ্চালনায় কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইসরাত জাহান।

​বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন​শামসুল ইসলাম, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ​আতিকুর রহমান, অফিসার ইনচার্জ (ওসি), গোদাগাড়ী মডেল থানা ​নিলুফার ইয়াসমিন, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা, ​আব্দুল মানিক, সমাজসেবা অফিসার

​এছাড়াও কর্মশালায় স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী, সমাজকর্মী এবং বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থার (এনজিও) প্রতিনিধিরা উপস্থিত থেকে প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন।