জিখবর ডেস্ক:  রাজশাহীতে এক সাংবাদিকের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছেন এক শীর্ষ মাদক কারবারির স্ত্রী। মাদক কারবারি স্বামীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হওয়ায় বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজশাহী নগরীর একটি কমিউনিটি সেন্টারে সংবাদ সম্মেলন করেন আরমিনা আক্তার নামের ওই নারী।
তার স্বামী আবুল কালাম আজাদ গোদাগাড়ীর একজন শীর্ষ মাদক কারবারি। গোদাগাড়ী পৌরসভার মহিষালবাড়ি সাগরপাড়া মহল্লায় তাদের বাড়ি। কালামের বিরুদ্ধে মাদকের বেশকিছু মামলা আছে। প্রায় চার দশক ধরে তিনি মাদকের রমরমা কারবার চালিয়ে আসছেন।
কালাম ১৯৮৭ সালে প্রথমবারের মতো রাজশাহী কাশিয়াডাঙ্গায় ২০০ প্রাম হেরোইনসহ তৎকালীন বিডিআর সদস্যদের হাতে প্রেপ্তার হয়েছিলেন। এরপর ১৯৯১ সালে রাজধানী ঢাকার গাবতলীর একটি আবাসিক হোটেলে হেরোইনসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হন। ঐ মামলায় ৩০ বছরের সাজাও হয়েছিল।
এরপর ২০০১ সালে ঢাকার সাভারে ঢাকাগামী মডার্ন এন্টারপ্রইজ বাসে এক কেজি হেরোইনসহ পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) সদস্যদের হাতে গ্রেপ্তার হন। এখানেও ছাড়া পেয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে তিনি ইয়াবা ও হেরোইনের কারবার চালিয়ে যাচ্ছিলেন।
পরবর্তীতে ২০১৫ সালের ১৯ মে ঢাকার আশুলিয়া থানার শ্রীপুর দক্ষিণপাড়া এলাকায় প্রায় ৫ লাখ ৮০ হাজার টাকা মূল্যের ১ হাজার ৪৫০ পিস ইয়াবাসহ র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হন আবুল কালাম আজাদ। এ নিয়ে র‌্যাবের তৎকালীন উপপরিদর্শক (এসআই) খোকন কুমার সাহা তার বিরুদ্ধে মামলা করেন।
এরপর জামিনে এসে আবারও মাদক কারবার শুরু করেন আজাদ। ২০১৬ সালের ২০ মে বিকেলে তিনি সাভার বাসস্ট্যান্ড এলাকায় প্রায় ১২ লাখ টাকা মূল্যের ৪ হাজার পিস ইয়াবা বড়িসহ আবার গ্রেপ্তার হন তিনি। এ নিয়ে সাভার থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মনিরুজ্জামান তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। ২০২২ সালের ২০ ডিসেম্বর মাসে গোদাগাড়ী মডেল থানার ওসি ও সার্কেল এসপি প্রায় এক কেজি হেরোইন তার বাড়ী থেকে উদ্ধার করে মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নং ৩১ । বারবার জামিনে এসে আবার মাদক কারবার শুরু করেন তিনি।
পরের বছরই ১৫ আগস্ট ঢাকার লালবাগ থানা এলাকায় আরও চার সহযোগীসহ গ্রেপ্তার হন আবুল কালাম আজাদ। এবার তাদের কাছ থেকে জব্দ করা হয় ১৪ হাজার ৮০০ পিস ইয়াবা বড়ি। এ নিয়ে লালবাগ থানার এসআই সুলতান মাহমুদ চৌধুরী তাদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। এসব নিয়ে বিভিন্ন সময় মাদক কারবারি আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ হয়।
এই মাদক কারবারির স্ত্রী আরমিনা আক্তার সংবাদ সম্মেলন করেন তারই চাচাশ্বশুর সাংবাদিক সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে। সাইফুল ইসলাম দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার গোদাগাড়ী প্রতিনিধি। জানা যায় ভাতিজা আবুল কালামের সঙ্গে জমি-জমা সংক্রাস্ত বিরোধ আছে তার।
আবুল কালাম আজাদের নামে এতগুলো মাদকের মামলা থাকলেও সংবাদ সম্মেলনে আরমিনা আক্তার দাবি করেন, তার স্বামী মাদক ব্যবসা করেন না। তার চাচাশ্বশুর সাংবাদিক হওয়ায় মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ করেন। জমি নিয়ে বিরোধের জেরে এসব সংবাদ প্রকাশ হয় বলে তার দাবি।
জানতে চাইলে সাংবাদিক সাইফুল ইসলাম বলেন, তার ভাতিজা চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী। বেশ কয়েকবার তিনি হেরোইন ও ইয়াবা নিয়ে গ্রেপ্তার হয়েছেন। তার সঙ্গে জমি সংক্রান্ত একটা বিরোধ আছে। এ নিয়ে একাধিকবার তারা মিথ্যা মামলা করেছেন। তদন্তে মামলাগুলো মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। এ কারণে তারা দোষ চাপাতে সংবাদ সম্মেলন করেছে।
সাইফুল ইসলাম দাবি করেন, আবুল কালাম আজাদকে নিয়ে তিনি নিজে কখনও সংবাদ লেখেননি। তবে তার মাদকের কারবার নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমেই খবর এসেছে। এ জন্য তার ভাতিজা তাকে সন্দেহ করে। তাই তার সম্মানহানি করতে ওই সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে বলে জানা যায়।