আব্দুল খালেক:
রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলায় আউশ ধানের বাম্পার ফলনের আশা কৃষকদের। পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন স্থানীয় কৃষকরা। এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং সময়মতো বৃষ্টিপাত হওয়ায় চলতি মৌসুমে ধানের বাম্পার ফলনের আশা করছেন চাষিরা। দিগন্তজোড়া মাঠে এখন শুধু সবুজের সমারোহ, বাতাসে ধান দুলছে আর আনন্দে কৃষক হাসছে।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে গোদাগাড়ী উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন ও ২টি পৌরসভায় আমন ২৩৭৬২ হেক্টর ও আউশ ১২৮১০ হেক্টর জমিতে ধানের আবাদ করা হয়েছে বলে কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে।
উপজেলার কৃষকরা জানায়, এ বছর এখন পর্যন্ত কোন প্রকার দুর্যোগ হয়নি আলহামুদুলিল্লাহ। পোকামাকড় মুক্ত ও ধানের স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে সময়মত পরিমিত কীটনাশক, সার দেয়া প্রয়োজন। প্রয়োজনের অতিরিক্ত সার বা কীটনাশক প্রয়োগ না করাই ভাল।
ধরমপুর গ্রামের শমসের আলীর ছেলে গোলাম নবী তিনি এ বছর ৯ বিঘা আউশ ধান আবাদ করেছেন। তিনি বলেন এ বছর পানি ও বায়ু সব কিছুই ঠিকমত আছে।এবার সার ও কীটনাশকের কোন সংকট নেই বললেই চলে। সময়মত সার ও কীটনাশক প্রয়োগ করায় ধানের কুশি খুবই ভালো হয়েছে তাই ভালো ফলনের আশা করাই যায়।
কদমশহর গ্রামের আরেক কৃষক আব্দুল হাকিমের ছেলে শামছুল আলম ৮ বিঘা জমিতে আউশ ধানের চাষ করেছেন। তিনি বলেন নিয়মিত বৃষ্টিপাত হওয়াতে এবার খরচ একটু কমেছে।মাঠে এবার পোকামাকড় ও রোগবালাই এর আক্রমন কম।
গোলাই গ্রামের মানিক উল্লার ছেলে হুমায়ুন কবির ১০ বিঘা জমিতে আমন ধান আবাদ করেছেন তিনি বলেন বর্তমানে ধানের গাছের যে অবস্থা তাতে খুব ভালো লাগছে। ভালো ফলনের আশা করছি।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মরিয়ম আহমাদ জানান, গোদাগাড়ী উপজেলায় এবার আমন ধানের সার্বিক পরিস্থিতি ভালো ও সন্তোষজনক রয়েছে।
ধানের বৃদ্ধি ও কুশি উৎপাদন আশানুরূপ হওয়ায় ভালো ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে।কৃষি উপকরণ সহজ লভ্য হয়ায় কৃষকরা নিয়মিত পরিচর্যা, সুষম সার প্রয়োগ ও বালাই ব্যবস্থাপনা করছেন।কৃষকদের কৃষি বিভাগ নিয়মিত মাঠ পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ মৌসুমে আমন ধানের বাম্পার ফলন হবে বলে আশা করছি।



