বিশেষ প্রতিনিধি: বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডে (BWDB) সম্প্রতি ঘটে যাওয়া একাধিক পদায়ন ঘিরে জোর আলোচনা তৈরি হয়েছে প্রশাসনিক মহলে। মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ডে দুইজন নির্বাহী প্রকৌশলীর পদায়ন নিয়ে সংস্থার অভ্যন্তরে যেমন গুঞ্জন চলছে, তেমনি জনমনে জন্ম নিচ্ছে প্রশ্ন—এটি নিছক রুটিন বদলি, না কি এর পেছনে রয়েছে কোনো পরিকল্পিত উদ্দেশ্য? হঠাৎ করেই দুই প্রকৌশলী বরগুনায় ১০ আগস্ট ২০২৫: ময়মনসিংহ পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট, ভাগ্যকূল, মুন্সীগঞ্জ থেকে মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন-কে নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে বরগুনায় পদায়ন করা হয়। ১২ আগস্ট ২০২৫: মেহেরপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আব্দুল হান্নান প্রধান-কেও একই পদে বরগুনায় পদায়ন করা হয়। তাঁকে তিন কর্মদিবসের মধ্যে যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়। এই পদায়নের ফলে আগের আদেশ অনুযায়ী মো. আব্দুল্লাহ আল মামুনের বরগুনা যোগদান নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। পুরনো মুখ, পুরনো অভিযোগ সূত্র মতে, মো. আব্দুল হান্নান প্রধান ২০১৮ সালেও বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ডে উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। সে সময় তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল। তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. মুজিবুর রহমান তদন্ত শেষে তাঁকে অন্যত্র বদলি করেন। স্থানীয় ঠিকাদার এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের একাধিক কর্মকর্তার ভাষ্যমতে, হান্নান প্রধান ছিলেন “ক্ষমতাসীন মহলের ঘনিষ্ঠ” এবং তাঁর পদায়নের পেছনেও থাকতে পারে রাজনৈতিক প্রভাব। তাঁর আগমন নিয়ে কর্মরত কর্মকর্তা ও ঠিকাদারদের মধ্যে এখন অস্বস্তি এবং উদ্বেগ বিরাজ করছে। প্রশ্ন উঠছে প্রশাসনের সিদ্ধান্ত নিয়ে অভিজ্ঞজনেরা বলছেন, যাঁর বিরুদ্ধে পূর্বে অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত ছিল, তাঁকে একই কর্মস্থলে ফেরত আনা হলে সেটি কেবল প্রশাসনিক দুর্বলতাই নয়, বরং একটি দুর্বল বার্তা দেয় সংস্থার অন্যান্য কর্মকর্তা ও সাধারণ জনগণের কাছে। এ ধরনের পদায়নে ভবিষ্যতে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের দায়মুক্তভাবে কাজ করার প্রবণতা বাড়তে পারে, যা কোনো সরকারি প্রতিষ্ঠানের জন্য কাম্য নয়। সমাধান কোথায়? বিশ্লেষকদের মতে, এমন ঘটনার ক্ষেত্রে নিরপেক্ষ তদন্ত এবং অভ্যন্তরীণ জবাবদিহিতা জরুরি। শুধু পদায়ন নয়, কার্যত কাজের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং পূর্বের ইতিহাস বিবেচনা করেই কর্মকর্তাদের নতুন কর্মস্থলে পাঠানো উচিত।