প্রচ্ছদ অন্যান্য পৃষ্ঠা রহনপুরে সাদা মনের মানুষ জিয়াউল হক অপহৃত!

রহনপুরে সাদা মনের মানুষ জিয়াউল হক অপহৃত!

652
0

গোমস্তাপুর (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) প্রতিনিধি : গোমস্তাপুর উপজেলার মুশরীভূজার সাদা মনের মানুষ দই বিক্রেতা জিয়াউল হককে সাদা পোশাকে কে বা কারা তুলে নিয়ে গেছে। বুধবার রহনপুর রেল স্টেশনে দুপুরে দই বিক্রি করছিলেন জিয়াউল হক। এসময় কয়েকজন এসে তাকে নীল রঙের মাইক্রোতে তুলে নিয়ে যায়। খবরটি মুহুর্তে রহনপুরে ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনা নিয়ে বিস্তার করতে থাকে নানান ডালপালা। অপরাজেয় বাংলার সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদকসহ স্থানীয় সংবাদ কর্মীদের কাছে বিষয়টি জানতে সাধারণ মানুষ ফোন করতে থাকেন। পরে ঘটনার সত্যতা জানতে মোবাইল করা হয় জিয়াউল হককে। ফোন ধরলে তার কাছে জানতে চাওয়া হয়,”আপনি কি অপহৃত হয়েছেন? “। প্রতিবেদকের এমন প্রশ্ন শোনে হাসতে থাকেন তিনি। বলেন, ” নাজি বাপু। হামার কিছু হয়নি। ভাল আছি।” তাকে নিয়ে তৈরি হওয়া গুজব তাকে জানানো হলে এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দুপুরে তিনি বিশ্রাম নেবার জন্য রহনপুর স্টেশন মসজিদে শুয়ে ছিলেন। এমন সময় তার কাছে একটা ফোন আসে। ফোন দিয়েছিলেন গোমস্তাপুর থানার উপ পরিদর্শক আবদুল্লাহ আল মামুন। তিনি জিয়াউল হককে বলেন, তাকে তিনি অনেকবার টিভিতে দেখেছেন। তার কার্যক্রম সম্পর্কে পত্রিকায় জেনেছেন। তাই সামনাসামনি তাকে ও তার কাজ দেখতে চান। তার বাড়িতে যেতে চান। পরে কয়েক মিনিট পরেই একটা গাড়ি স্টেশন মসজিদের সামনে আসে। সেই গাড়িতে আগে থেকেই বসে ছিলেন পুলিশের উপ পরিদর্শক আবদুল্লাহ আল মামুনসহ গোমস্তাপুর থানার কয়েকজন পুলিশ। সেই গাড়িতে করে জিয়াউল হককে সসম্মানে তার নিজ বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। এমন দৃশ্য স্টেশনের কয়েকজন মানুষ দেখলে পরে তা মুখে মুখে ছড়িয়ে পরে, জিয়াউল হককে মাইক্রো বাসে তুলে নেয়া হয়েছে। বিষয়টি জানতে গোমস্তাপুর থানার উপ পরিদর্শক আবদুল্লাহ আল মামুনকে ফোন দেয়া হয়। সব শুনে তিনি হাসতে হাসতে বলেন, জিয়াউল হক সাদা মনের মানুষ। তাকে দেখার ইচ্ছা ছিল। আজ সময় ও সুযোগ ছিল, একারণে তার বাড়িতে নিয়ে যাবার জন্য তাকে অনুরোধ করেছিলাম। জিয়াউল হক প্রতিবেদদকে জানান, গোমস্তাপুর থানার উপ পুলিশ পরিদর্শকসহ কয়েকজন পুলিশ তার প্রতিষ্ঠিত লাইব্রেরি ঘুরে দেখেন। বিভিন্ন বিষয়ে জানতে চান। তারা খুব ভাল ব্যবহার করেছেন। জিয়াউল হকের সামাজিক কাজের প্রশংসা করেন তারা। তাকে বিভিন্ন ইতিবাচক কাজে সহযোগিতার আশ্বাসও দেয়া হয়। পুলিশের উপ পরিদর্শক আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, সাদা মনের মানুষ জিয়াউল হকের মতো মানুষকে উৎসাহ ও সহযোগিতা দেয়ার দরকার রয়েছে। সমাজে জিয়াউল হকের মতো মানুষদের বড় প্রয়োজন। জিয়াউল হক ১৯৬৯ সাল হতে তিল তিল করে গড়ে তোলেন তার পারিবারিক লাইব্রেরি৷ প্রতিদিন তিনি দইয়ের ভাঁড় কাঁধে নিয়ে, বর্তমানে সাইকেলে গ্রামে-গঞ্জে ফেরি করে বেড়ান৷ আর দই বিক্রির টাকা থেকে কিনে আনতেন দুই-একটি বই অথবা পত্রপত্রিকা৷ তিনি অভাবগ্রস্থ মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের মাঝে বিনামূল্যে পাঠ্যবই দেন। ২০০৭ সালের ঢাকার হোটেল শেরাটনে গণ্যমান্য অতিথি, সামরিক, সরকারি উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা, লেখক, শিল্পী, সাহিত্যিক, বুদ্ধিজীবি, তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারে উপদেষ্টাদের উপস্থিতিতে ‘সাদা মনের মানুষ’ হিসেবে জিয়াউল হকসহ নির্বাচিত দশ জনকে আনুষ্ঠানিক সম্মানা দেয়া হয়। ‘সাদা মনের মানুষ’ সম্মাননা-২০০৭ ছাড়াও ১৯৯৯ সালে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রশাসন, ১৯৯৩ সালে রহনপুর ইউসুফ আলী কলেজ,২০০৩ সালে ভোলাহাট ছাত্র কল্যাণ সংস্থা, ১৯৯৯ সালে গোমস্তাপুর বইমেলা কর্তৃপক্ষ, ২০১০ সালে ঢাকাস্থ চাঁপাই নবাবগঞ্জ জেলা সমিতি থেকে সম্মাননা দেয়া হয় জিয়াউর হককে।