জিখবর ডেস্ক: রাজশাহীর গোদাগাড়ী সরকারি উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজের প্রদর্শক ফায়েক আলীর বিরুদ্ধে অশালিন আচরণ ও বাজে অঙ্গভঙ্গী করার অভিযোগ করেছে শিক্ষার্থীরা। নেশাগ্রস্থ অবস্থায় শিক্ষার্থীদের হেজাব, নেকাব ও অশ্লীল কথাবার্তা বলায় বিক্ষোভ মিছিল শেষে গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে স্মারক লিপি প্রদান করে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।

স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয় গোদাগাড়ী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের রাসায়ন বিভাগের প্রদর্শক ফায়েক আলী শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় বিদ্বেষমূলক কটুক্তি, করেছেন। ৩ আগষ্ট দুপুরে এইচ.এস.সি বিজ্ঞান বিভাগের ২০২৪-২৫ সেশনের শিক্ষার্থীরা ব্যবহারিক খাতায় স্বাক্ষর নিতে গেলে তিনি শিক্ষার্থীদের নেশাগ্রস্থ অবস্থায় অস্বাভাবিক আচরণ করেন। তিনি পর্দানশীল নারী শিক্ষার্থীদের সাথে অশালীন আচরণ করেন। তিনি রহস্যজনকভাবে কিছু বুঝে উঠার আগেই উপস্থিত ছাত্র/ছাত্রী ও তাদের অভিভাবকদের চরিত্রহীন, কুলাঙ্গার বলে গালিগালাজ করেন। আরও উল্লেখ করা হয়, একজন ছাত্রীকে ইঙ্গিত করে বাজে অঙ্গভঙ্গী প্রদর্শন করেন এবং বলেন, আমি কি ঐটা যে আমার সামনে হিজাব করবি? হঠাৎ শিক্ষকের এমন আচরণ দেখে শিক্ষার্থীরা হতভম্ব হয়ে যায়। অপরাধ না করেও ফায়েক আলী রুবেল শিক্ষার্থীদের কান ধরে দাঁড় করিয়ে রাখেন। এছাড়াও ফায়েক আলী শিক্ষার্থীদের ছবি তুলে ব্ল্যাকমেইল করে বলেন, বেশি বাড়াবাড়ি করলে সোস্যাল মিডিয়ায় ছেড়ে দিবো এবং বোর্ডে সবার নাম্বার কম দেয়ার হুমকি দেয়।

শিক্ষার্থীরা জানায় এ ব্যাপারে অধ্যক্ষ বরাবর জানালেও তিনি কোন প্রকার পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি। তাই শিক্ষকের বিরুপ আচরণে অতিষ্ঠ হয়ে আমরা ‍উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে বিচার চেয়ে স্মারকলিপি জমা দিয়েছি।

শিক্ষার্থীরা আরো অভিযোগ করেন ফায়েক আলী প্রায় নেশাগ্রস্থ অবস্থায় প্রতিষ্ঠানে আসেন, আবোল তাবোল কথা বলেন, অস্বাভাবিক আচরন করেন। ক্লাসে গিয়ে গিটার (বাদ্যযন্ত্র) বাজায়। আমাদের সামনে প্রতিষ্ঠানে প্রকাশ্যে ধুমপান করেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে মহিশালবাড়ী গ্রামের জনৈক ব্যক্তি বলেন, বিগত সরকারের আমলে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ গোদাগাড়ী পৌর শাখার প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদকের দায়িত্বে থেকে ২০১৮ সনের জাতীয় নির্বাচনে অস্ত্রের মোহড়া দিয়ে মহিশালবাড়ী কেন্দ্র দখল করতে দেখা যায় ফায়েক আলীকে।
এছাড়াও তিনি বলেন, মাদক প্রবন এলাকায় তাকে মাদক সেবন করতেও দেখা যায়।

এসব বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার শিক্ষার্থীদের মনোযোগ সহকারে কথা শুনেন এবং বলেন, অধ্যক্ষকে ডেকেছি। উভয় পক্ষকে ডেকে অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।