জিখবর ডেস্ক: রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলায় গোরস্থানের নামে জোর করে জমি দখল, বেড়া ভাঙচুর ও গাছপালা বিনষ্টের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় গোরস্থান কমিটির সভাপতি মজিবুর মেম্বারের ইশারায় সব হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
গত ৫ সেপ্টেম্বর (শনিবার) বিকাল ৫ টায় গোদাগাড়ীর সুলতানগঞ্জ ঘাট এলাকায় ভাংচুর করে তারা।

ভুক্তভোগী আব্দুল্লাহ অভিযোগ করে বলেন, সুলতানগঞ্জ মৌজার জেএল নং-১৮১, দাগ নং-২২ এর ৯২ শতক জমি ৪০ বছর যাবত আমাদের দখলে রয়েছে কাগজ মুলে। বিএস রেকর্ডে ৩০.৬৬ শতক জমি আমাদের নামে এসেছে। বাকি ৬১.৩৪ শতক জালিয়াতি করে গোরস্থান কমিটির নামে রেকর্ড করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

তিনি আরও বলেন, ৪ সেপ্টেম্বর বিকাল ৫টায় লিয়াকত মাস্টার, ইমাম তৌকির, আব্দুল্লাহ মাস্টার, আমিনুল ইসলাম সহ গোরস্থান কমিটির ৩০ থেকে ৪০ জন লোক নিয়ে এসে আমাদের জমির বেড়া ভেঙে নিয়ে যায়। এতে প্রায় ৪০ হাজার টাকার ক্ষতি সাধিত হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়, বেড়া ভাঙার পাশাপাশি জমির বাঁশঝাড়, নিম গাছ, কাঁঠাল গাছ, সজনে ও আম বাগানও কেটে বিনষ্ট করা করেছে তারা। এছাড়াও ওই জমিতে দীর্ঘ প্রায় ৪০ বছর ধরে পদ্মা নদীর ঘাটের টোল ঘর ও দোকান থেকে ভাড়া তোলা হয় এবং ধান-গমের চাষাবাদ হয়ে আসছে। মসজিদের নামে ৩ শতক জমিও দান করা আছে বলে জানান তিনি।
আব্দুল্লাহর দাবি, গোরস্থান কমিটির সভাপতি মজিবুর মেম্বারের নির্দেশেই এই দখল ও ভাঙচুর করা হয়েছে।

এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। ভুক্তভোগী পরিবার প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত গোরস্থান কমিটির সভাপতি মজিবুর মেম্বারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আমি বর্তমানে চিকিৎসাধীন আছি। এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না।

ঘাাট মালিক মোবারক জানান, আমরা বহুদিন যাবত আব্দুল্লাহ’র পরিবারের কাছেই ঘাটের টোলঘর ভাড়া নিয়ে আছি। তারাই আমাদের কাছে ভাড়া নেন।
ঘাট মালিক রবিউল ইসলাম জানান, এই জায়গা আবু সাইদদের দখলেই আছে। আমরা তো অনেকদিন থেকেই দেখছি। আমরা তাদেরকেই ভাড়া দিই। ১ হাজার টাকা করে ভাড়া দিই।

প্রতিবেশি মহবুল ইসলাম (৭০) ও চা দোকানি মতিউরও বলছিলেন একই কথা। তারা জানান আব্দুল্লাহরা ওয়ারিশ সূত্রে পেয়েছে জমি। আবদুল্লাহর বাবা চাচারা ক্রয় করেছিলেন এই জমি। সেই সুত্রে প্রাপ্ত হয়ে তারা ভোগ দখল করছে। এ ব্যাপারে গোদাগাড়ী মডেল থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে বলে জানা গেছে।