এস.এম.সাইফুল ইসলাম কবির, বাগেরহাট প্রতিনিধি:

বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার ১০ নম্বর হোগলাবুনিয়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডে এক যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় পুরো এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। শনিবার ভোরে রাস্তার পাশের একটি মেহগনি গাছ থেকে উদ্ধার করা হয় মো. জাহিদুল ইসলাম (২০) নামে ওই যুবকের মরদেহ। তিনি একই এলাকার বাসিন্দা মো. মনিরুল ইসলামের ছোট ছেলে। ঘটনাটি ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও আলোচনা তৈরি হয়েছে। এটি আত্মহত্যা নাকি এর পেছনে অন্য কোনো রহস্য রয়েছে—তা নিয়ে এলাকায় চলছে ব্যাপক জল্পনা-কল্পনা। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে এখনই নিশ্চিত করে কিছু বলতে রাজি নয় পুলিশ। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার ভোরে বাড়ি থেকে প্রায় ৬০০ গজ দূরে রাস্তার পাশে একটি খোলা স্থানে মেহগনি গাছের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় জাহিদুল ইসলামের মরদেহ দেখতে পান এক নারী। তিনি বিষয়টি দেখে আতঙ্কিত হয়ে চিৎকার দিলে আশপাশের লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই খবর পৌঁছে যায় নিহতের পরিবারের কাছে। নিহতের বাবা মো. মনিরুল ইসলাম ছুটে গিয়ে নিজের ছেলের ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান। এমন মর্মান্তিক দৃশ্য দেখে তিনি ভেঙে পড়েন। পরিবারের সদস্যদের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে শত শত মানুষ ঘটনাস্থলে ভিড় জমায়। স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে ১০ নম্বর হোগলাবুনিয়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের চৌকিদার আবু বক্কর ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পরে মোরেলগঞ্জ থানার এসআই মোস্তাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও প্রাথমিক তদন্ত কার্যক্রম শুরু করে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাস্থলের বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে এবং উপস্থিত ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার বিষয়ে তথ্য নেওয়া হয়েছে। দীর্ঘ সময় ঘটনাস্থলে অবস্থান করে পুলিশ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে। পুলিশ ও স্থানীয়দের উপস্থিতিতে শনিবার বেলা আনুমানিক ১১টা ৩০ মিনিটের দিকে মেহগনি গাছ থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় থাকা মরদেহ নামানো হয়। পরে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বাগেরহাট সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, জাহিদুল ইসলামকে আগের দিন এলাকায় স্বাভাবিকভাবেই চলাফেরা করতে দেখা গেছে। হঠাৎ করে তার এমন মৃত্যু সবাইকে বিস্মিত করেছে। ফলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে নিরপেক্ষ ও গভীর তদন্তের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। এ বিষয়ে মোরেলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, “খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। এটি আত্মহত্যা নাকি অন্য কোনো কারণে মৃত্যু হয়েছে, সে বিষয়ে এখনই নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।” পুলিশ আরও জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে। তদন্তে যদি কোনো অপরাধমূলক ঘটনার সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়, তাহলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এদিকে রহস্যজনক এ মৃত্যুর ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে নিহতের পরিবার ও স্বজনদের মাঝে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দ্রুত ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে জাহিদুল ইসলামের মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য উদঘাটিত হবে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে।