জিখবর ডেস্ক:
রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে এস.এস.সি ও সমমানের পরীক্ষায় প্র্যাকটিক্যাল খাতা দেখার নামে চলছে টাকা রোজগারের মহৌৎসব।
গোদাগাড়ীতে ৪টি কেন্দ্রে এস.এস.সি পরীক্ষা দেয় মোট ২৯৬০ জন। অপর দিকে ২টি মাদরাসা কেন্দ্রে এ বছর দাখিল পরীক্ষা দেয় ৬৮৯ জন শিক্ষার্থী। গোদাগাড়ী উপজেলায় মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ৩৮৯৮জন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায় বিভিন্ন কেন্দ্রে ভাইভা/ প্র্যাকটিক্যাল পরীক্ষায় ভালো নম্বর দেয়ার নাম করে শিক্ষার্থীদের নিকট থেকে উৎকোচ নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে জানায় বিজ্ঞান বিভাগের কৃষি বা উচ্চতর গণিত বিষয়ে ২০০ টাকা, জীব বিজ্ঞান- ২০০ টাকা, রসায়ন- ২০০ টাকা, পদার্থ বিষয়ে নেয়া হচ্ছে ২০০ টাকা। তবে অনেক ক্ষেত্রে কম নেয়াও হয়েছে।
এছাড়াও মানবিক বিভাগের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ICT বিষয়ে ৫০-১০০ টাকা এবং কৃষি ব্যবহারিক খাতায় নেয়া হয়েছে। ১০০/১৫০/২০০ টাকা পর্যন্ত।
আবার কতিপয় ছাত্রের নিকট কোন টাকা নেয়নি বলেও জানা যায়।

গোদাগাড়ী উপজেলায় মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ৩৮৯৮। জন প্রতি ২০০/- করে নেয়া হলে শুধুমাত্র কৃষি শিক্ষা খাতায় নেয়া হয়েছে ৭৭৯,৬০০ টাকা।
বিজ্ঞান বিভাগের জীব বিজ্ঞান বিষয়ের মোট শিক্ষার্ধী যদি ধরা হয় ১৮শ তাহলে মোট বিষয় হলো ৪টি ১৮শ ছাত্রকে ৪ দিয়ে গুণ করলে হয় ৭২০০জন এদের প্রত্যেক জন থেকে ২০০ করে হলে দাঁড়ায় ১,৪৪০,০০০/- টাকা।
মানবিক বিভাগের মোট শিক্ষার্থী যদি ধরা হয় ২০৯৮জন তাহলে ২টি বিষয়ে হয় ৪১৯৮জন জনপ্রতি ২০০ করে হলে দাঁড়ায় ৮৩৯,২০০/- টাকা।

দুই বিভাগের মোট উৎকোচ দাঁড়ায় ২,২৭৯,২০০ টাকা। এত বিপুল পরিমাণ টাকা শিক্ষকরা নিয়েছেন বলে অভিযোগ করছেন শিক্ষার্থীরা।
এত টাকা কেন নেয়া হয়, কিভাবে খরচ হয়? এতগুলো টাকা নেয়ার কোন বিধান আছে কি না? জানতে চাওয়া হলে উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার বলেন কেন্দ্র সচিবরা বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী চলে, আমরা কোন নির্দেশনা দিইনা। আমরা শুধু তদারকি করি। আমাদের তদারকি থাকে সাধারণত প্রাকটিক্যালের আগ পর্যন্ত। এর পরে আমাদের তদারকির কোন কাজ থাকে না। বোর্ডের নির্ধারিত ফি এর বাইরে আদৌ নেয়ার কথা না। প্রাকটিকালেও যদি নেয়ার কথা না থাকে তাহলে নেয়ার কথা না। আসলে নেয়ার নিয়ম আছে কি না বা ওদের নিকট থেকে শুনা লাগবে অথবা কোন পরিপত্র থাকলে দেখতে হবে।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, বোর্ডের নির্ধাতি ফি এর বেশি নেয়ার কোন এখতিয়ার নেই। তিনি সংশ্লিষ্ট উপজেলা শিক্ষা অফিসের একাডেমিক সুপারভাইজারকে ডেকে কেন্দ্রগুলোতে শোকজ দেয়ার জন্য নির্দেশ প্রদান করেন।